নিজস্ব প্রতিবেদক: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) ও গোয়েন্দা ঢাকা কর্তৃক বিপুল পরিমান মাদক উদ্ধার।
(মঙ্গলবার) ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা মেট্রো কার্যালয় (উত্তর) এর উপপরিচালক মোঃ রাজিউর রহমান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে, একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, ঢাকা মহানগরীর বনানী থানাধীন এরশাদ মাঠ, কড়াইল, টি অ্যান্ড টি কলোনি, ওয়ার্ড-২০, বনানী, ঢাকাস্থ ‘‘আরিফ জেনারেল স্টোর’’ নামীয় ১(এক) কক্ষ বিশিষ্ট মুদি দোকানে অভিযান পরিচালনা করে ১,১০০ পিস ইয়াবাসহ ১,৯০,০০০ (এক লক্ষ নব্বই হাজার) টাকাসহ মোঃ আরিফ হোসেন (২৬)কে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। এসময় রেইডিং টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে মনির হোসেন (৪৪) পালিয়ে যায়।
গ্রেফতারকৃত আসামীর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী পলাতক আসামি মনির হোসেনের নামে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় ৩ টি মাদক মামলা রয়েছে। মনির হোসেন কড়াইল বস্তি এলাকার বিভিন্ন স্পট দখল করে ইয়াবা ও হেরোইন বিক্রি করে এবং ঢাকার বিভিন্ন মদের ওয়্যারহাউজ থেকে মদ সংগ্রহ করে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে সরবরাহ করে থাকে। এছাড়াও বর্ডার দিয়ে ভারতীয় মদ চোরাচালানের সাথে জড়িত আছে।
আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ (সংশোধিত, ২০২৬) অনুযায়ী গুলশান সার্কেল পরিদর্শক, মোঃ এমদাদুল হক খাঁন বাদী হয়ে বনানী থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
এছাড়াও মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়, ঢাকার উপপরিচালক মোঃ মেহেদী হাসান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে, সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, রাতে যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় গোল চত্বর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মাসুমা খাতুনকে ১০০ (একশত) গ্রাম হেরোইন ও একটি মোবাইল ফোনসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে।
জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা তথ্য পান যে, যশোর থেকে ঢাকাগামী ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ বাসযোগে এক নারী হেরোইন নিয়ে ঢাকায় আসছেন। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, একটি রেইডিং পার্টি ধোলাইপাড় গোল চত্বর এলাকায় অবস্থান নেয়। সন্ধ্যায় ৭টায় ধোলাইপাড় গোল চত্বরের সামনে বাসটির গতিরোধ করে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বাসের মাঝের আসনে বসা সন্দেহভাজন নারীকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় মাসুমা খাতুন (৬৫) হিসেবে নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার কাছে হেরোইন থাকার বিষয়টি জানা গেলে টিমের নারী সদস্যদের সহায়তায় তার পরিহিত পোশাকের ভেতর থেকে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো একটি পলিব্যাগ উদ্ধার করা হয়। পলিব্যাগের ভেতরে ১০০ গ্রাম হেরোইন পাওয়া যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুমা খাতুন জানান, তিনি যশোর থেকে হেরোইন এর চালানটি ঢাকায় নিয়ে আসছিলেন। তার দাবি অনুযায়ী, তার মেয়ে তাহমিনা তাকে বিভিন্নভাবে মাদক পরিবহনের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং মেয়ের নির্দেশনাতেই তিনি হেরোইনটি ঢাকায় নিয়ে আসছিলেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগেও তিনি একইভাবে আরও দুইবার হেরোইন বহন করেছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
ডিএনসির প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাহমিনার যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে আরও তদন্ত ও তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে। তাহমিনার অবস্থান শনাক্ত এবং তাকে আইনের আওতায় আনতে ডিএনসির গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান চলমান রয়েছে। মাদক কারবারে অপেক্ষাকৃত বয়স্ক নারী বা পরিবারের সদস্যদের ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের কৌশল কোনো সংঘবদ্ধ মাদকচক্রের পরিকল্পিত পদ্ধতি কি না, মাদকের উৎস ও গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আসামীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২৬) অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়।