রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
Logo মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক বিমানবন্দরে কুশসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেফতার Logo ডিএনসি ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কর্তৃক অভিযানে ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার ১ Logo মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালী কর্তৃক বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২ Logo মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)-র দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত Logo কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে বাংলাদেশের জনগণের করণীয় ও এর প্রতিকার: ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান Logo ডিএনসি নোয়াখালী কর্তৃক বিপুল পরিমান ইয়াবা উদ্ধার, শীর্ষ মাদককারবারী গ্রেফতার Logo বাংলাদেশে অপ্টোমেট্রি পেশার ইতিহাসে নতুন মাইলফলক: বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলে অন্তর্ভুক্তি ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া নিয়ে জাতীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo ডিএনসি মৌলভীবাজার কর্তৃক ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার Logo হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগীর অপেক্ষার সময় কমাতে স্বাস্থ্যসেবা চেইন: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি বাস্তবসম্মত সমাধান Logo বাংলাদেশের টিকা নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সার্বভৌমত্ব: এখনই দেশীয় ভ্যাকসিন উৎপাদনে জাতীয় বিনিয়োগের সময়

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)-র দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৬ Time View
Update : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ন
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)-র দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)-র দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)-র দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত। বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় ঢাকা কর্তৃক ৩০৯ (তিনশত নয়) বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিলসহ ফেন্সিডিল পাচার চক্রের ৪ (চার) সদস্য গ্রেফতার।

(মঙ্গলবার) ৪ঠা আগস্ট ২০২৬ তারিখে ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, কয়েকজন মাদক কারবারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ন্যাশনাল ট্রাভেলস এবং দেশ ট্রাভেলস-এর দুটি যাত্রীবাহী বাসযোগে বিপুল পরিমাণ কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল ঢাকায় নিয়ে আসছে।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ মেহেদী হাসান এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম রাজধানীর বনানী থানাধীন মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকায় কস্তুরী রেস্টুরেন্টের সামনে অবস্থান গ্রহণ করে।

নির্ধারিত সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ন্যাশনাল ট্রাভেলস (রেজি. নং: ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯৯১০) ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বাসটি থামিয়ে বি-৩, সি-৩ ও সি-৪ নম্বর আসনে বসা তিনজন সন্দেহভাজন যাত্রীকে আটক করা হয়। তাদের বহনকৃত ট্রাভেলস ব্যাগ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

পরবর্তীতে দেশ ট্রাভেলস (রেজি. নং: ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৩৭৯৯) একই স্থানে পৌঁছালে বাসটি থামিয়ে জি-১ নম্বর আসনে বসা একজন যাত্রীকে আটক করা হয়। তার দেহে বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত একটি জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় তল্লাশি চালিয়ে জ্যাকেটের গোপন চেম্বার থেকে কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হল: মোঃ নাসিরুল ইসলাম (৪৮), থানা ও জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ।, মোঃ ফাহিম আজাদ (২৭), থানা: লালপুর, জেলা: নাটোর, মোছাঃ জুলেখা খাতুন (৩২), থানা: শিবগঞ্জ, জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও মোছাঃ শারমিন খাতুন (৩২), থানা ও জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

উদ্ধারকৃত আলামত:  একটি ট্রাভেলস ব্যাগ হতে ১০৯ (একশত নয়) বোতল ভারতীয় কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল, অপর একটি ট্রাভেলস ব্যাগ হতে ১০০ (একশত) বোতল ভারতীয় কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল। বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত একটি জ্যাকেটের গোপন চেম্বার হতে ৫০ (পঞ্চাশ) বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল। বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত অপর একটি জ্যাকেটের গোপন চেম্বার হতে ৫০ (পঞ্চাশ) বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল।

সর্বমোট ৩০৯ (তিনশত নয়) বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত ৮টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সংঘবদ্ধ এই সিন্ডিকেটটি গত ৩–৪ বছর ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় নিয়মিত ফেন্সিডিল সরবরাহ করে আসছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে তারা মাদক পরিবহনের সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রাখত, একাধিক রুট ও একাধিক যাত্রীবাহী বাস ব্যবহার করত এবং নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও লেনদেনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনক্রিপ্টেড অ্যাপস ব্যবহার করত।

আরো জানা যায়, গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারিরা মাদক পরিবহনের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত জ্যাকেট ব্যবহার করত। জ্যাকেটগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে শরীরের সঙ্গে সহজে বহন করা যায় এবং বাইরের দৃষ্টিতে তা সাধারণ পোশাক বলে মনে হয়। প্রতিটি জ্যাকেটের ভেতরে একাধিক গোপন চেম্বার ছিল, যেখানে ৫০ থেকে ৬০ বোতল পর্যন্ত ফেন্সিডিল বহন করা সম্ভব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়ানোর উদ্দেশ্যেই তারা এই অভিনব কৌশল গ্রহণ করেছিল।

গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের যোগসাজশে সংঘবদ্ধভাবে ESKUF Syrup ও FAIRDYL Syrup নামে পরিচিত কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিলের অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এসব নিষিদ্ধ মাদক সংগ্রহ করে বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাসযোগে ঢাকায় এনে স্থানীয় মাদক কারবারিদের কাছে সরবরাহ করত।

তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। পারস্পরিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সুসংগঠিত মাদক পাচার নেটওয়ার্ক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বনানী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্য, অর্থদাতা, সরবরাহকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ডিএনসির গোয়েন্দা তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) দেশে ফেন্সিডিলসহ সকল প্রকার নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে রাজধানীসহ সারাদেশে গোয়েন্দা নজরদারি, বিশেষ অভিযান এবং আইন প্রয়োগমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও একই ধারাবাহিকতায় পরিচালনা করবে বলে জানা যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design & Developed by : JEWEL