নিজস্ব প্রতিবেদক: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ঢাকা মেট্রো (উত্তর) ও নোয়াখালী কর্তৃক বিপুল পরিমান ইয়াবা ও হেরোইন উদ্ধার।
জানা যায়, (রবিবার) ৫ই এপ্রিল, ২০২৬ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রোঃ কার্যালয় উত্তর এর উপপরিচালক শামীম আহমেদ এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে, উত্তরা সার্কেল পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, এর নেতৃত্বে একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, ঢাকা মহানগরের ডেমরা থানাধীন সেনোয়ারা গ্রীন পার্ক, পূর্ব ডগাইর, সারুলিয়া, আলহেরা জামে মসজিদ পাশে একটি চারতলা ভবনে অভিযান পরিচালনা করে ৪০০(চারশত) গ্রাম হিরোইন ও ৫০০ (পাঁচশত) পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত হেরোইন সম্রাজ্ঞী হোসনে আরা বেগম (৩৮)স্বামী -আবু তাহেরকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে হোসনেয়ারা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন চনপাড়া, বটতলা এলাকাস্হ সাগর আহম্মেদের তৃতীয় তলা বিল্ডিং এর ভাড়াটিয়া মো: ইদ্রিস এর দখলীয় ফ্ল্যাট থেকে থেকে ২০০০০ (বিশ হাজার) পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ অর্থ ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকাসহ ইয়াবা সম্রাট মোঃ ইদ্রিস (৪৫)কে হাতেনাতে গ্রেফতার করে।
উপপরিচালক শামীম আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, হোসনেয়ারা বেগম যশোরের বেনাপোল সীমান্ত থেকে হিরোইন সংগ্রহ করেন এবং পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জসহ আরো কয়েকটি স্পটে হিরোইনের মূল যোগানদাতা হিসেবে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে । তাছাড়া, ইয়াবা সম্রাট মোঃ ইদ্রিস কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে এসব ইয়াবা চোরাচালানোর মাধ্যমে সংগ্রহ করে নারায়ণগঞ্জের চনপাড়া ও ঢাকার বিভিন্ন স্পটে সরবরাহ করে। জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, তারা ভারত সীমান্ত থেকে সংগ্রহকৃত এসব মাদকের মূল্য হুন্ডির মাধ্যমে পরিশোধ করে থাকেন। মাদক উদ্ধার স্পট ভিন্ন হওয়ায় দুজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলার দায়ের করা হয়। আসামীর বিরুদ্ধে পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে সংশ্লেষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
এদিকে জানা যায়, (রবিবার) ৫ই এপ্রিল, ২০২৬ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, নোয়াখালীর উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ এর নেতৃত্বে একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, নোয়াখালী জেলার সুধারাম মডেল থানাধীন মাইজদী নতুন হাউজিং (বালুর মাঠ) এলাকার হাসপাতাল রোডের দক্ষিণ পাশে মোঃ রহিম এর চায়ের দোকানের সামনে রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করে জসিম উদ্দিন জহির (৫৫)কে ৩৯৮০ (তিন হাজার নয়শত আশি) পিস ইয়াবা, ২টি মোবাইল ফোনসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে। উপপরিচালক সুব্রত সরকার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, নোয়াখালী এবং র্যাব-১১ সিপিসি ৩, নোয়াখালী এর যৌথ রেইডিং টিম সুধারাম মডেল থানাধীন মাইজদী নতুন হাউজিং (বালুর মাঠ) এলাকায় ছদ্মবেশে অবস্থান নেয়। এসময় জসিম উদ্দিন জহির ইয়াবা ডেলিভারির উদ্দেশ্যে হাসপাতাল রোডের দক্ষিণ পাশে মোঃ রহিম এর চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে তাকে ৩৯৮০ (তিন হাজার নয়শত আশি) পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামী জানায়, কক্সবাজারের ঈদগাঁও এলাকার একটি ব্রিক ফিল্ডে কাজ করার পাশাপাশি কক্সবাজারের উখিয়ার মরিচ্যা বাজার এলাকা থেকে ইয়াবা এনে নোয়াখালীর হাসপাতাল রোডে পৌঁছে দেয়ার কাজ করতো । চল্লিশ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রতিটি চালান পৌঁছে দেয়ার কাজ করতো। ইতোপূর্বে সে ৪ বার নোয়াখালীতে ইয়াবা পৌঁছে দিয়েছিল।
আসামীর বিরুদ্ধে উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।