নিজস্ব প্রতিবেদক: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ হাসান মারুফ এর দিক-নির্দেশনায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী একের পর এক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
(শুক্রবার) ১৬ই অক্টোবর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দিক-নির্দেশনায়, ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ জাহিদ হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে, বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় ঢাকা, ঢাকা মেট্রো (উত্তর) ও (দক্ষিণ) কার্যালয়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি রেইডিং টিম রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় সেভেনটি এইট রেস্টহাউজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি মদ ও বিয়ারসহ মোঃ আতাউর রহমান শামীম (৪২)কে গ্রেফতার করে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোঃ ওমর জামিল (৪৫) পালিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ জাহিদ হোসেন মোল্লা বলেন, গুলশান-২-এর ১০৪ নম্বর সড়কের ২৪ নম্বর বাসায় অবস্থিত ‘সেভেনটি এইট রেস্টহাউজ সোসাইটি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কোনো বার লাইসেন্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিদেশি মদ মজুত ও পাইকারি এবং খুচরা বিক্রি করা হচ্ছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়। তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের পর (শুক্রবার) ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ উক্ত রেস্টহাউজ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২২৩ বোতলে মোট ১৭৭ লিটার বিদেশী মদ এছাড়া ২০৯টি বোতল ও ক্যানসহ মোট ৬৭ লিটার বিয়ার উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘জার্মান ক্লাব’-এর ভুয়া নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃতপক্ষে সেভেনটি এইট রেস্টহাউজ সোসাইটি। ‘জার্মান ক্লাব’ নামে সেখানে কোনো প্রকৃত বা বৈধ প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অভিযানকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার আতাউর রহমান শামীমকে গ্রেফতার করে। পরে বিক্রির উদ্দেশ্যে অবৈধ মদ মজুত ও সংরক্ষণের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জব্দ করা মদ ও বিয়ারের বৈধতার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রয়োজনীয় বৈধতার প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানটিতে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো । এসব পার্টিতে অংশগ্রহণকারীদের কাছে অবৈধভাবে বিদেশি মদ,বিয়ারসহ বিভিন্ন মাদক সরবরাহ করা হতো। এর সাথে সংশ্লিস্ট একাধিক ব্যক্তির বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান আছে। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আতাউর রহমান শামীম, পলাতক মোঃ ওমর জামিল এবং অজ্ঞাতনামা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২৬) অনুযায়ী গুলশান থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
অন্যদিকে (বৃহস্পতিবার) ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, নোয়াখালীর উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ, এসআরবি-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর যৌথ নেতৃত্বে একটি টিম বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৪০০০ (চার হাজার) পিস ইয়াবাসহ মোহাম্মদ আলম (৩৫)কে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী জানায়, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার লেদা শরণার্থী ক্যাম্প থেকে ইয়াবা নিয়ে হাতিয়া যাচ্ছিল। তার প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চলমান আছে। আসামীর বিরুদ্ধে পরিদর্শক বাপন সেন বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।