বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
Logo মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তর নোয়াখালী কর্তৃক আবারো বিপুল পরিমান ইয়াবা উদ্ধার Logo রাজধানীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান অব্যাহত Logo রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী ডিএনসি-র অভিযান চলমান Logo আসন্ন দুর্গা পূজা উপলক্ষে ডিএনসি-র দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত Logo ডিএনসি ঢাকা মেট্রো (উত্তর) ও (দক্ষিণ) কর্তৃক বিপুল পরিমান মাদক উদ্ধার Logo মোবাইলের আলো নয়, অদেখা সমস্যাটিই কি আমাদের চোখের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি? Logo ডিএনসি ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কর্তৃক ১৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার Logo ডিএনসি ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) ও গোয়েন্দা ঢাকা কর্তৃক বিপুল পরিমান মাদক উদ্ধার Logo দ্বিতীয় লংমার্চ থেকে যেসব দাবিদাওয়া জানাল জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট Logo ডিএনসি কিশোরগঞ্জ কর্তৃক ২০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার

আসন্ন দুর্গা পূজা উপলক্ষে ডিএনসি-র দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৬ পূর্বাহ্ন
আসন্ন দুর্গা পূজা উপলক্ষে ডিএনসি-র দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত
আসন্ন দুর্গা পূজা উপলক্ষে ডিএনসি-র দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ হাসান মারুফ এর দিক-নির্দেশনায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী একের পর এক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিনিয়ত মাদক উদ্ধার হচ্ছে, আসামী গ্রেফতার হচ্ছে। তারপরেও থেমে নেই মাদক কারবারীদের দৌরাত্ব্য।

(মঙ্গলবার) ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, ডেমরা সার্কেল পরিদর্শক মোঃ ফজলুল হক খান এর নেতৃত্বে একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, উপপরিদর্শক কে.এম.এ. হানিফ, সহকারী উপপরিদর্শক মোঃ নুরুল ইসলামসহ ০২ (দুই) জন পুলিশ ফোর্স নিয়ে একটি রেইডিং টিম ভাটারা থানাধীন ছোলমাইদ ঢালিবাড়ী কাঁচা বাজার সংলগ্ন সজল ঢালীর মালিকানাধীন বাসা নং-০৬/১৬, ৫ম তলা বিল্ডিংয়ের নিচ তলার উত্তর পার্শ্বের ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করে একটি কাপড়ের সাইড ব্যাগের ভিতর কাগজ ও স্কচটেপ দ্বারা মোড়ানো ৩৪,০০০ (চৌত্রিশ হাজার) পিস ইয়াবাসহ মালা বেগম (৬২) ও  মামুন চোকদার (৩৬)কে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। রেইডিং টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রধান আসামী সাহিদা বেগম ইতি(৪৮) পালিয়ে যায়। জানা যায় গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয় পরস্পর সর্ম্পকে মা-ছেলে।

উপপরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাাসাবাদে জানা যায়, ভাটারা থানাধীন জোয়ার সাহারা এলাকাস্থ সাহিদা বেগম ইতি(৪৮) উদ্বারকৃত ইয়াবার প্রকৃত মালিক। পলাতক আসামী সাহিদা বেগম ইতি(৪৮) কক্সবাজার হতে ইয়াবা সংগ্রহ করে মালা বেগম (৬২) এর বাসায় মজুদ করে থাকে এবং গাজীপুরের কোনাবাড়ী, সাইনর্বোড, টাঙ্গাইলের ভুয়াপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকে। উদ্ধারকৃত আলামতের  আনুমানিক মূল্য প্রায় ১,০২,০০০০০ (এক কোটি দুই লক্ষ) টাকা। আসামীদের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ (সংশোধিত ২০২০ ও ২০২৬) অনুযায়ী নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে (বুধবার) ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রো কার্যালয় (উত্তর) এর উপপরিচালক মোঃ রাজিউর রহমান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ড. মো: আবু সাঈদ মিয়া এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের গ্রীন চ্যানেলে অবস্থান নেয়। এ সময় ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের (ফ্লাইট নং- TG321) একটি ফ্লাইটে আসা ভারতীয় নাগরিক ABHIJIT DAS (40) কে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরবর্তীতে আসামীর ট্রাভেল ট্রলি ব্যাগ তল্লাশি করে কাপড়ের নিচে সুকৌশলে লুকানো ০৪ কেজি ২৮০ (চার কেজি দুইশত আশি) গ্রাম কুশ, ১টি ভারতীয় পাসপোর্ট (নম্বর: Z7630595), ২,১৬০ ভারতীয় রুপি, ৭০ থাই বাথ এবং০৩ টি ভারতীয় শাড়ী উদ্ধার করা হয়। উপপরিচালক মোঃ রাজিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত অভিজিৎ দাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী জানায়, তিনি মূলত বনগাঁও রেলওয়ে স্টেশনের একজন সাধারণ কুলি। একটি আন্তর্জাতিক ও ত্রিদেশীয় মাদক চোরাচালান চক্র ভারতের নিম্নআয়ের মানুষদের ‘ভিসা ফ্রি’ সুবিধার সুযোগ নিয়ে কলকাতা থেকে ব্যাংককে নিয়ে যায়। এরপর তাঁদের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্যের (যেমন: ভারতীয় শাড়ি) আড়ালে বিপুল পরিমাণ মাদক বাংলাদেশে চালান করা হয়। এই চক্রটি বাংলাদেশে কুশের এক নতুন বাজার তৈরির অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশে ২-৩ দিন অবস্থান করে মাদকের কিছু অংশ হস্তান্তর শেষে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। আসামির বিরুদ্ধে বিমানবন্দর সার্কেলের পরিদর্শক শাহরিয়া শারমিন বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২৬) অনুযায়ী একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

অন্যদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়, ঢাকার উপপরিচালক মোঃ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর মতিঝিল থানাধীন আরামবাগ সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে থেকে আবদুর রহিম (৬২) ও ফোরকান মাহমুদ (৩২) নামে দুজনকে ১ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা কক্সবাজার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ঢাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসার কথা জানায়।
এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, কদমতলী থানাধীন স্মৃতিধারা, ২৪ ফুট, ২ নম্বর রোড, জিয়া স্মরণী এলাকার একটি ভাড়াবাসায় অভিযান চালিয়ে সাইফুল ইসলাম বাবু (৩২) নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার বসতঘরের আলমারির গোপন ড্রয়ারে রাখা একটি ব্যাগ থেকে ২ হাজার ৬০০ (দুই হাজার ছয়শত) পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে টেকনাফ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ঢাকার বিভিন্ন মাদক কারবারির কাছে বিক্রির কথা জানায়।

সর্বশেষ ১৩ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর বনানী থানাধীন মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকায় কুন্তুরী রেস্টুরেন্টের সামনে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান পরিচালনা করে মোঃ লিটন মিয়া (৩৫) ও মোঃ আবদুল আজিজ (৩৯) নামে দুজনকে ২ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঢাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন মাদক কারবারির কাছে সরবরাহের কথা জানায়।

উপপরিচালক মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, উক্ত অভিযানগুলোতে সর্বমোট ৬ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা এবং ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতদের মাদক সংগ্রহ, পরিবহন, মজুত ও সরবরাহের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। আসামীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ (সংশোধিত ২০২৬) অনুযায়ী পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।

এছাড়াও (মঙ্গলবার) ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নোয়াখালীর উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে, উপপরিদর্শক মোঃ হাবিবুর রহমান, এসআরবি-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী ক্যাম্পের ডিএডি অমলেশ বাইন এবং সুধারাম মডেল থানার উপপরিদর্শক সুমন বণিক এর যৌথ নেতৃত্বে একটি রেইডিং টীম, সুধারাম মডেল থানাধীন ৮নং এওয়াজবালিয়া ইউপির ৫নং ওয়ার্ড পূর্ব এওয়াজবালিয়া গ্রামস্থ মামুন উর রশিদ এর মালিকানাধীন অটোরিক্সার গ্যারেজে অভিযান পরিচালনা করে হার্ডবোর্ডের পার্টিশন দিয়ে তৈরি বিশ্রামকক্ষের খাটের উপর থেকে ৪৪ (চুয়াল্লিশ) পিস ইয়াবা, ১টি দেশীয় ওয়ান শ্যুটার পাইপগান, ১টি সতেজ সীসা কার্তুজ, ৩টি মোবাইল ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামসহ মামুন উর রশিদ (৩৭), আব্দুল মন্নান (২৭) ও মানজুর রহমান সাকিল (৩৮)কে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।

উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্যারেজের ভিতরের বিশ্রামকক্ষটি ইয়াবা সেবনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল। আইনশৃংখলা বাহিনীর নজর এড়াতে আইপি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। এছাড়া, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে দেশীয় ওয়ান শ্যুটার পাইপগান ও কার্তুজ সংগ্রহ করে রাখা হয়েছিল। আসামীদের বিরুদ্ধে উপপরিদর্শক, মোঃ হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র আইনে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design & Developed by : JEWEL