বাংলাদেশে অপ্টোমেট্রি পেশার আইনগত স্বীকৃতি, রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ অপ্টোমেট্রিক সোসাইটি (বিওএস)-এর উদ্যোগে “বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল (বিআরসি)-এ অপ্টোমেট্রি পেশাজীবীদের রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স” বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোহাম্মাদ হারুণ অর রশিদ, রেজিস্ট্রার (যুগ্মসচিব), বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল (বিআরসি)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. রাজিব হাসান, ডেপুটি রেজিস্ট্রার, বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হাসান শহীদ সরোয়ার্দী, অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ অপ্টোমেট্রিক সোসাইটির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন অপ্টোমেট্রি সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষক, গবেষক এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত বিপুল সংখ্যক অপ্টোমেট্রি পেশাজীবী।
কর্মশালায় বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৮-এর আলোকে রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবীদের নিবন্ধন, লাইসেন্স, পেশাগত নৈতিকতা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বক্তারা বলেন, রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের আওতায় অপ্টোমেট্রি পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্তি দেশের দৃষ্টিসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আইন অনুযায়ী কাউন্সিলের অন্যতম দায়িত্ব হলো রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবীদের নিবন্ধন, লাইসেন্স প্রদান, পেশাগত মান উন্নয়ন এবং সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করা।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, এটি কেবল অপ্টোমেট্রি পেশাজীবীদের আইনগত স্বীকৃতি (Legal Recognition) ও রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ সৃষ্টি করেনি; বরং পেশার মানোন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি (Capacity Building), জবাবদিহিতা, নৈতিক অনুশীলন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পেশাগত কাঠামো গড়ে তোলার পথও সুগম করেছে।
কর্মশালায় বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা নিবন্ধন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, ভবিষ্যৎ লাইসেন্সিং ব্যবস্থা এবং পেশাজীবীদের করণীয় বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।
বাংলাদেশ অপ্টোমেট্রিক সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অপ্টোমেট্রি পেশার দীর্ঘদিনের স্বীকৃতির দাবিকে বাস্তবায়নের পথে এই কর্মশালা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। একই সঙ্গে দেশের সকল যোগ্য অপ্টোমেট্রি পেশাজীবীকে বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, সরকার, বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগে অদূর ভবিষ্যতে অপ্টোমেট্রি পেশা আরও সুসংগঠিত, মর্যাদাপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি স্বাস্থ্যসেবা পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।