নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)-র বিশেষ অভিযানে বিশেষ কায়দায় (Chemical Impregnation) লুকায়িত অবস্থায় ৬.৪৪ কেজি ভয়ংকর মাদক কিটামিন জব্দ এবং ২ জন আসামি গ্রেপ্তার।
জানা যায়, গত ৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং তারিখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)-র মহাপরিচালকের নির্দেশে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ বদরুদ্দীনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, টঙ্গীতে অবস্থিত ফেডেক্স কুরিয়ার সার্ভিসে অবস্থান নেয় এবং ফেডেক্স এর সার্বিক সহযোগিতায় ঢাকা হতে ইতালীগামী একটি পার্শ্বেল এর অস্বাভাবিক ওজন দেখে সন্দেহ হলে পার্সেলটি পরীক্ষা করে একটি খাকি রং এর কার্টুনের ভিতর পৃথক সাতটি সাদা TOWEL পাওয়া যায়।

উদ্ধারকৃত আলামত
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ হাসান মারুফ সংবাদ সম্মেলনে বলেন,ঘটনাস্থলেই ডিএনসির রাসায়নিক পরীক্ষক দ্বারা TOWEL এর রাসায়নিক পরীক্ষা সম্পন্ন করলে TOWEL-এ দ্রবীভূত অবস্থায় ৬.৪৪ কেজি (ক শ্রেণির) ভয়াবহ মাদক কিটামিন (Ketamine) এর উপস্থিতি পাওয়া যায়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসি-র অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ গোলাম আজম, গোয়েন্দার অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ বদরুদ্দীন, বিভাগীয় কার্যালয় ঢাকার অতিরিক্ত পরিচালক একেএম শওকত ইসলাম, গোয়েন্দা কার্যালয় ঢাকার উপপরিচালক খোরশিদ আলম, ঢাকা মেট্রো উত্তরের উপপরিচালক শামীম আহম্মেদ, দক্ষিনের উপপরিচালক মোঃ মানজুরুল ইসলাম ও উত্তরের উপপরিচালক মোঃ মেহেদী হাসান।
পরবর্তীতে ডিএনসির একটি বিশেষ রেইডিং টিম জব্দকৃত পার্সেলের প্রেরকের ঠিকানা, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, প্রেরক গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে আত্মগোপন করেছেন। এর ভিত্তিতে ঢাকা গোয়েন্দা ইউনিট অভিযান পরিচালনা করে চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর এলাকা থেকে প্রেরক, মোঃ মাসুদুর রহমান জিলানী (২৮) কে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত আসামী
পরবর্তীতে আরও তথ্য পর্যালোচনা ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানা যায় যে উক্ত কিটামিন চালান ফরিদপুর জেলার মোঃ আরিফুর রহমান খোকা (৪৩) এর সাথে যোগসাজশে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছিল এবং খোকা এই আন্তর্জাতিক চক্রের অন্যতম হোতা।
এরপর তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উক্ত রেইডিং টিম ফরিদপুর জেলার সালথা থানাধীন আটঘর বাজার এলাকায় আরো একটি অভিযান পরিচালনা করে মোঃ আরিফুর রহমান খোকাকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে দুইটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং একটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনিও কুরিয়ারের মাধ্যমে কিটামিন পাচারের সাথে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেন।
উক্ত টাওয়াল বা মোটা কাপড় ব্যবহার করে মাদক পাচার একটি গোপন কৌশল, যেখানে টাওয়ালের ভেতরে গঠন পরিবর্তন করে মাদক লুকানো হয়। কেমিক্যাল ইমপ্রেগনেশনে টাওয়ালকে মাদকের দ্রবণে ভিজিয়ে শুকানো হয়। ফলে মাদক ফাইবারে মিশে যায়। কাপড় বা তোয়ালেটি মাদক শোষণ করলে সেটি দেখতে স্বাভাবিক কাপড়ের মতোই মনে হয়, ফলে এটি সহজে শনাক্ত করা যায় না। পাচারকারীরা পরে বিশেষ কেমিক্যাল বা ল্যাব প্রসেস ব্যবহার করে ওই কাপড় থেকে পুনরায় মাদক উত্তোলন করে। এই পদ্ধতি কোকেন, হেরোইন ও কেটামিন পাচারে বেশি ব্যবহৃত হয়।
মহাপরিচালক আরো বলেন, আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের নতুন নতুন কৌশল প্রতিরোধে কুরিয়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সাথে সমন্বয় করে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মানবদেহে কিটামিন (Ketamine) – এর ক্ষতিকর প্রভাব:
কিটামিন (Ketamine) মূলত একটি ডিসোসিয়েটিভ অ্যানেস্থেটিক ওষুধ, যা অতীতে চিকিৎসা ক্ষেত্রে অপারেশনের সময় অজ্ঞান করার জন্য ব্যবহৃত হত। কিন্তু বর্তমানে এটি ব্যাপকভাবে মাদক হিসেবে অপব্যবহার করা হচ্ছে, বিশেষ করে পার্টি ড্রাগ হিসেবে। কিটামিন একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর মাদক, যা স্বল্পমেয়াদে বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন ও শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি কিডনি ও মূত্রথলির গুরুতর ক্ষতি, মানসিক সমস্যা এবং আসক্তির দিকে ঠেলে দেয়। নিয়মিত সেবনে সহনশীলতা তৈরি হয়ে ডোজ বাড়ানোর প্রবণতা দেখা দেয়, যা জীবনের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করে।
Chemical Impregnation – এর ব্যবহার:
এটি টাওয়াল বা মোটা কাপড় ব্যবহার করে মাদক পাচার একটি গোপন কৌশল, যেখানে টাওয়ালের ভেতরে গঠন পরিবর্তন করে মাদক লুকানো হয়। কেমিক্যাল ইমপ্রেগনেশনে টাওয়ালকে মাদকের দ্রবণে ভিজিয়ে শুকানো হয়, ফলে মাদক ফাইবারে মিশে যায়। কাপড় বা তোয়ালেটি মাদক শোষণ করলে সেটি দেখতে স্বাভাবিক কাপড়ের মতোই মনে হয়, ফলে এটি সহজে শনাক্ত করা যায় না। পাচারকারীরা পরে বিশেষ কেমিক্যাল বা ল্যাব প্রসেস ব্যবহার করে ওই কাপড় থেকে পুনরায় মাদক উত্তোলন করে। এই পদ্ধতি কোকেন, হেরোইন ও কেটামিন পাচারে বেশি ব্যবহৃত হয়।
অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)-র অতিরিক্ত মহাপরিচালক (যুগ্ন সচিব), মোহাম্মদ গোলাম আজম, গোয়েন্দার অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ বদরুদ্দীন, বিভাগীয় কার্যালয় ঢাকার অতিরিক্ত পরিচালক একেএম শওকত ইসলাম, গোয়েন্দা কার্যালয় ঢাকার উপপরিচালক খোরশিদ আলম, ঢাকা মেট্রো উত্তরের উপপরিচালক শামীম আহম্মেদ, দক্ষিনের উপপরিচালক মোঃ মানজুরুল ইসলাম ও উত্তরের উপপরিচালক মোঃ মেহেদী হাসান।

গ্রেফতারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে এর সাথে সংশ্লিষ্ট আরও একাধিক ব্যাক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। গ্রেফতারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুসারে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।