রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ০১:৫০ অপরাহ্ন

বেশি দামে এবার প্রবাসী আয় আনতে বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

Reporter Name / ১৫০ Time View
Update : রবিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৩, ৫:১৬ অপরাহ্ন
বেশি দামে এবার প্রবাসী আয় আনতে বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বেশি দামে এবার প্রবাসী আয় আনতে বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু ব্যাংককে ঘোষণার চেয়ে বেশি দামে ডলার কিনতে অনানুষ্ঠানিক পরামর্শ দিয়েছে বলে জানা গেছে। গত ৪১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবাসী আয় দেশে এসেছে গত মাসে। সেপ্টেম্বরে বৈধ পথে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। এর আগে সর্বশেষ ২০২০ সালের এপ্রিলে এত কম প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল। ওই মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল ১০৯ কোটি ডলার। ডলার–সংকটের এ সময়ে প্রবাসী আয় কমে যাওয়ায় ডলার–সংকট আরও প্রকট হয়েছে। এ অবস্থায় ডলার–সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন কিছু ব্যাংককে ঘোষণার চেয়ে বেশি দামে ডলার কেনার পরামর্শ দিয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে প্রবাসী আয় আসা কিছুটা বেড়েছে।

একাধিক ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি মাসের শুরুতে বিভিন্ন ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনানুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, যে দামেই হোক, বেশি প্রবাসী আয় আনার কথা বলেছে। এরপর কোনো কোনো ব্যাংক ১১৪ টাকার চেয়েও বেশি দামে প্রবাসী আয় এনেছে। এরপর সেই পরামর্শ পরিবর্তন করে জানায়, প্রতি ডলারে সর্বোচ্চ আড়াই টাকা বেশি দাম দেওয়া যাবে। ফলে এখন প্রায় এক ডজন ব্যাংক প্রবাসী আয়ে প্রতি ডলারের দাম দিচ্ছে সর্বোচ্চ ১১২ টাকা ৫০ পয়সা। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) সময়ে–সময়ে ডলারের দাম নির্ধারণ করছে। এখন প্রবাসী ও রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে ডলারের আনুষ্ঠানিক দাম ১১০ টাকা। আর আমদানিকারকদের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রে ডলারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১০ টাকা ৫০ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংক বেশি দামে ডলার কিনতে এমন সব ব্যাংককে অনানুষ্ঠানিক নির্দেশনা দিয়েছে, যাদের মাধ্যমে আগে থেকেই ভালো পরিমাণে প্রবাসী আয় দেশে আসছিল। কিন্তু পরে ডলারের দাম বেঁধে দিয়ে তা মানতে বাধ্য করার কারণে এসব ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় আসা কমে যায়। এসব ব্যাংকের মধ্যে ইসলামি ধারার পাশাপাশি প্রচলিত ধারার ভালো কয়েকটি ব্যাংকও রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ১১ দিনে ৬৯ কোটি ৮০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ৬১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। চলতি মাসে প্রবাসী আয় আসার যে ধারা, তা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে তা ১৮০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা পাওয়া দুটি ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বেশি দামে ডলার কেনার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জরিমানা করেছে, এখন তারাই আবার ঘোষণার চেয়ে বেশি দামে ডলার কেনার জন্য পরামর্শ দিচ্ছে।

তাদের পরামর্শমতো ডলার কেনা হচ্ছে কি না, তারও তদারকি করছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কিছু কর্মকর্তা। ফলে ব্যাংকগুলোতে একটি অনানুষ্ঠানিক ডলারের বাজার তৈরি হয়েছে। বেশি দামে প্রবাসী আয় সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের পক্ষ থেকে কিছু কর্মকর্তাকে এসব কাজে যুক্ত করা হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোতে সুশাসনের চর্চা ব্যাহত হচ্ছে। কারণ, অনানুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করাতে হচ্ছে এসব কর্মকর্তা দিয়ে। তবে বিষয়টি নিয়ে কোনো ব্যাংকের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক কিছু বলতে রাজি হননি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘এমন কোনো নির্দেশনার বিষয়ে আমার জানা নেই। এর আগে বেশি দামে ডলার কেনাবেচা করায় ১০ ব্যাংকের ট্রেজারিপ্রধানদের এক লাখ টাকা জরিমানার বিষয়টি আমি জানি। এর বেশি কিছু জানি না।’ ঘোষণার চেয়ে বেশি দামে ডলার কেনাবেচার অভিযোগে চলতি মাসের শুরুতে বেসরকারি ওই ১০ ব্যাংকের ১০ জন ট্রেজারিপ্রধানকে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই টাকা জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল গত সোমবার। তবে এসব ব্যাংকের কর্মকর্তারা জরিমানার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আপিল করেছেন। এখন এ আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান গভর্নর নিজেই।

যে ১০ ব্যাংকের ট্রেজারিপ্রধানদের জরিমানা করা হয়, সেগুলো হলো মার্কেন্টাইল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, শাহ্‌জালাল ইসলামী ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডলার–সংকটে রিজার্ভ ক্ষয়ে যাচ্ছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি দায় মেটানোর জন্য ডলারের সরবরাহ বাড়ানোর বিকল্প নেই। সংকট কাটাতে সাময়িক সময়ের জন্য এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সংকট কাটাতে সামনে ডলারের দাম আরও কিছুটা বাড়ানো হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি প্রথম আলোকে বলেন, ডলারের নির্ধারিত দাম যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেই না মানে, সেটা খুবই দুঃখজনক। এটা কোনোভাবেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতির সঙ্গে যায় না। ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে না দিয়ে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে অনৈতিক কাজ করাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সমস্যা সমাধানে দাম বাজারভিত্তিক করার বিকল্প নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design & Developed by : JEWEL