নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসায়ীদের মজুদদারী রুখে দিল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
জানা যায় (শুক্রবার) ১৩ই মার্চ, ২০২৬ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, (ডিএনসি) ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ মেহেদী হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, হাজারীবাগ থানাধীন বছিলা ওয়েস্ট ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান পরিচালনা করে, চারটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৬৫ (পয়ষট্টি) বোতল বিদেশি মদসহ মো. গাউসুল আজম প্রিন্স (৩৪) এবং মো. আবদুর রহমান (৩৭)কে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। উদ্ধারকৃত মদের মধ্যে ছিল রয়্যাল স্ট্যাগ, আইস ভদকা, ব্লেন্ডার্স প্রাইড এবং ম্যাকডাওয়েলস ব্র্যান্ডের মদ। মোট প্রায় ৪৮ (আটচল্লিশ) লিটারের বেশি বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে উপপরিচালক মোঃ মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই বাসাটি ভাড়া নিয়ে গোপনে বিদেশি মদ মজুদ করে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে আসছিল। মো. গাউসুল আজম প্রিন্স (৩৪) মুলত মোহাম্মদপুর এলাকাসহ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বিদেশীমদ পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ের মুল হোতা। মো. আবদুর রহমান (৩৭) ময়মনসিংহ-নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা হতে অবৈধ ভাবে ভারতীয়মদ সংগ্রহ করে ঢাকায় মোঃ গাউসুল আজম প্রিন্স (৩৪) এর কাছে পৌছে দেয়। ঈদকে সামনে রেখে চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিতে তারা বড় চালান সংগ্রহ করে রেখেছিল। অবৈধভাবে চোরাই পথে বা নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূতভাবে আনা এসব বিদেশি মদ অনেক সময় ভেজাল বা টিউন করা (adulterated) হয়ে থাকে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব মদে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অতিরিক্ত মিথানল মেশানো থাকতে পারে, যা মানুষের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়া, স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে। সাধারণত ঈদ, পুঁজা বা নববর্ষের মত উৎসবের আগে বিক্রির উদ্দেশ্যে এ ধরনের ভেজাল মদ মজুদ করা হয়। তাই ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অবৈধ মদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, (ডিএনসি) ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক একেএম শওকত ইসলাম এর দিক-নির্দেশনায়, উপপরিচালক শামীম আহমেদ এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে, রমনা সার্কেল পরিদর্শক জাকির হোসেন এর নেতৃত্বে একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, যাত্রাবাড়ী থানাধীন ১৯৮, দক্ষিণ কুতুবখালীস্থ মা-বাবার দোয়া টেলিকম নামীয় দোকানের সামনে রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করে মোঃ জুবায়ের (২১)কে ৪৪০০ (চার হাজার চারশত) পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে। অপর অভিযানে, ২৩/৪ গোলাপবাগ বিশ্ব রোডস্থ “খান মেডিসিন সেন্টার” নামীয় দোকানের সামনে রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করে মোঃ হেদায়েতুল্লাহ (২২)কে ৩৮০০ (তিন হাজার আটশত) পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে। আসামীদের বিরুদ্ধে পরিদর্শক জাকির হোসেন ও উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী পৃথক পৃথক নিয়মিত মামলা দায়ের করেন বলে জানা যায়।