শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
Logo লেবাননে গাজার মতো ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর হুমকি ইসরাইলের Logo যুদ্ধের মধ্যেই দূরপাল্লার পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল যুক্তরাষ্ট্র Logo দেশের সব সরকারি পরিত্যক্ত ভবন চিকিৎসাকেন্দ্র করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo ডিএনসি ঢাকা গোয়েন্দার অভিযানে ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার Logo সায়দাবাদে মাদক কারবারিদের গুলিতে ডিএনসির কর্মকর্তা আহত Logo রমজানে পানিশূন্যতা দূর করবে ৪ ফল Logo ইরানের সঙ্গে সংঘাতে প্রথম মার্কিন ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মুখ খুলল যুক্তরাষ্ট্র Logo পর্যাপ্ত জ্বালানি ও খাদ্যপণ্য মজুত থাকায় দাম বাড়ার শঙ্কা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ বেঁচে আছেন: উপদেষ্টা Logo মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালী কর্তৃক ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার

যুদ্ধের মধ্যেই দূরপাল্লার পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন
যুদ্ধের মধ্যেই দূরপাল্লার পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধের মধ্যেই দূরপাল্লার পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল যুক্তরাষ্ট্র

গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই আগ্রাসন শুরুর পর দফায় দফায় গণহারে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে অন্তত ১৮০ শিশুসহ ইরানের ১২ শতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এরই মধ্যে পরমাণু অস্ত্রের মতো গণবিধ্বংসী অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে মার্কিন সেনারা।

এয়ার ফোর্স গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ড বুধবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে দুটি পরীক্ষামূলক ‘রি-এন্ট্রি ভেহিকেল’সহ উৎক্ষেপণটি পরিচালিত হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা কয়েক বছর আগেই করা হয়েছিল।  এটি ‘বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় করা হয়নি’।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় সময় ৩ মার্চ রাত ১১টার দিকে মার্কিন বিমান বাহিনীর গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ড পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষা করেন।

এলজিএম-৩০জি মিনিটম্যান-৩ নামের ব্যালিস্টিক মিসাইলটি মূলত আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম)। যা ১০ হাজারের বেশি দূরে লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষুতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।

পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে।  এটি ‘ডুমসডে মিসাইল’ বা প্রলয়ংকরী ক্ষেপণাস্ত্র নামে অধিক পরিচিত। তবে পরীক্ষার সময় এটি নিরস্ত্র ছিল, তথা কোনো ইউরেনিয়াম ছিল না। পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পর এটি হাজার হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের কোয়াজালিন অ্যাটলের একটি পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পড়েছিল।

এয়ার ফোর্স গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ডের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অফিসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এটি একটি দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা ডেটা-ভিত্তিক পরীক্ষা কর্মসূচির অংশ, যার অধীনে মিনিটম্যান-৩ অস্ত্র ব্যবস্থার কার্যকারিতা, নির্ভুলতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে ৩০০টিরও বেশি অনুরূপ উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এই ফ্লাইটের সময় সংগৃহীত তথ্য চলমান এবং ভবিষ্যতের বাহিনী মূল্যায়নে সহায়তা করবে।

৫৭৬তম ফ্লাইট টেস্ট স্কোয়াড্রনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ক্যারি রে বলেন, জিটি-২৫৫-এর মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন উপাদানের মূল্যায়ন করা হয়েছে, যা দেশের পারমাণবিক ত্রয়ীর স্থল-ভিত্তিক অংশের প্রস্তুতি বাড়াবে। গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল এস.এল. ডেভিস জানান, পরীক্ষাটি উৎক্ষেপণ থেকে শুরু করে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানার সক্ষমতা নিশ্চিত করেছে।

মিনিটম্যান-৩ মিসাইল কী

এলজিএম-৩০জি মিনিটম্যান-৩ হলো সিলো থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল, যা এয়ার ফোর্স গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাটির নিচে সুরক্ষিত সাইলোতে ছড়িয়ে রাখা হয় এবং শক্তিশালী কেবলের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ উৎক্ষেপণ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে। দুই কর্মকর্তার একটি ক্রু সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থায় থাকে। যদি স্থল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে বিশেষভাবে কনফিগার করা ই-৬বি এয়ারবোর্ন লঞ্চ কন্ট্রোল সেন্টার বিমানগুলো কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিতে পারে।

মিনিটম্যান-৩ মিসাইল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক ত্রয়ীর একটি মূল উপাদান, যা স্থল, সমুদ্র এবং আকাশ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র উৎক্ষেপণের সক্ষমতা নিশ্চিত করে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলত একটি প্রতিরোধক হিসেবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পারমাণবিক হামলার শিকার হলে পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানানোর পর গত নভেম্বরেও একটি মিনিটম্যান-৩ মিসাইল পরীক্ষা করা হয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্রটি ঘণ্টায় হাজার মাইলেরও বেশি গতিতে ৬ হাজার মাইল বা প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত পথ অতিক্রম করতে পারে, যা দিয়ে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অল্প সময়ের মধ্যে আঘাত হানা সম্ভব।

সূত্র:এনডিটিভি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design & Developed by : JEWEL